মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ছয়-সাত ঘন্টার মধ্যেই রবিবার সকাল থেকেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মৎস্যবন্দর মহিপুর-আলীপুরে ইলিশ নিয়ে হাজির অসংখ্য ট্রলারের শত শত জেলে। সকলের মতামত এরা আগেই সাগরে মাছ ধরতে চলে গিয়েছিল। ইলিশে অনেকটা যেন সয়লাব হয়ে আছে। তবে অধিকাংশ ইলিশের সাইজ খুব ছোট। রবিবার সকাল থেকেই দুই বন্দরে ইলিশ নিয়ে ভিড়তে থাকে একের পর ট্রলার। অধিকাংশ মাছ জাটকা সাইজের। এছাড়া অনেক আগের ধরা ইলিশ। অনেকটায় পচন পর্যন্ত ধরেছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন, কিছু অসাধু জেলে ও ট্রলার মালিক অবরোধ চলাকালীন সময়েই গভীর সাগরে অবস্থান নেয়। মাছ শিকার করে। নিষেধাজ্ঞা শেষেই ঘাটে ফেরেন। বরফ সংকটে এদের মাছের গুনগত মান নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে আগে কিংবা পরেই যখনই সাগরে যাকনা কেন, গোটা মোকামজুড়ে বিরাজ করছে ইলিশমুখর পরিবেশ। জেলেদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। কোলাহল রয়েছে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে।
মাঝি রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁরা জাল ফেলেই ছোট সাইজের বেশকিছু ইলিশ নিয়ে শেষ বিকালে ঘাটে ফিরেছেন। গাজী বেলাল হোসেন, রমজান আলী, আলাউদ্দিন ঘরামী সবাই জানালেন, এখন তাঁরা পর্যাপ্ত ইলিশ পাবেন।
২২দিনের অবরোধের পরে কলাপাড়ার গোটা উপকূলজুড়ে ইলিশ ধরা জেলেদের মধ্যে আজ রবিবার সকাল থেকে বিরাজ করছে আনন্দ। তবে ১০-১৫দিনের সময় নিয়ে গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকার শঙ্কা প্রকাশ করেন। মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, ইলিশের আমদানি হয়েছে। তবে সাইজ অনেক ছোট। কিন্তু সাগর বিকাল থেকে কিছুটা উত্তাল রয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে এমনটা হচ্ছে বলে তার অনুমান।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, দেশের অন্যতম কলাপাড়ার এই মৎস্য বন্দরের জেলেরা এবারে শতভাগ অবরোধ পালন করেছেন। এখন কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি এও বলেন ডেইলি ফিশিং করা বহু জেলে এরই মধ্যে ইলিশ ধরে ঘাটে ফিরেছেন।









