পটুয়াখালীর বাউফলে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট এলাকার পূর্ব পাশে রবীন্দ্র হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবীন্দ্র হাওলাদার (৫৫)। আহতরা হলেন তার স্ত্রী ঠাকুরানী হাওলাদার (৪৫) এবং দুই ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৫) ও রনি হাওলাদার (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী রতন ব্যাপারীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিনও এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে পূর্ব বিরোধের জেরে রতন ব্যাপারী ও তার সহযোগীরা রবীন্দ্র হাওলাদারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় লোহার পাইপ ও সাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিভূতি সরকার জানান, হঠাৎ করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে রবীন্দ্র হাওলাদারের মাথায় লোহার সাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। নিহত রবীন্দ্র হাওলাদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। আহত হৃদয়, রনি ও ঠাকুরানী হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসা অভিযুক্ত আনন্দ ব্যাপারী (৫৫), কুসুম রানী (৪৫), প্রদ্বীপ ব্যাপারী (২৭) ও রতন ব্যাপারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। তবে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।









