পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শীতের আমেজ কাটতে না কাটতেই মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আগাম তরমুজ চাষের কর্মযজ্ঞ। গত বছরের লোকসানের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি কৃষকরা। তারপরও নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবারও তরমুজ আবাদে নেমেছেন তাঁরা। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং বাজারদরের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে রয়েছে নানা শঙ্কা।
উপজেলার চান্দুপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষক মো. ফেরদৌস এবারও আগাম তরমুজ চাষে নেমেছেন। এক মৌসুমের জন্য এ বছর এক লাখ ২০ হাজার টাকায় ২৪ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন তিনি। জমি চাষাবাদের প্রস্তুতি শেষ করে বুধবার থেকে শুরু করেছেন তরমুজের চারা রোপণ। সবকিছু ঠিক থাকলে ১০০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
ফেরদৌস জানান, শ্রমিকের মজুরি, জমি চাষ, বীজসহ প্রাথমিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এক কানি (৮ বিঘা) জমিতে চাষাবাদ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। ২৪ বিঘা জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। এর বাইরে সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার খরচ তো রয়েছেই। তবে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা উৎপাদন খরচ নিয়ে।
ফেরদৌসের ভাষ্য, গত বছর তরমুজের বাজারদর ভালো না থাকায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সারের দাম বেশি, পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। তিন বেলা খাবার দেওয়ার পরও একজন দিনমজুরকে দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বাজারে সার থাকলেও অনেক সময় ডিলাররা সংকটের কথা বলে বেশি দামে বিক্রি করেন।
এদিকে চান্দুপাড়া গ্রামসহ কলাপাড়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন আগাম তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন। তবে গত বছর কলাপাড়ায় ৪ হাজার ৪৬৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, এ বছর সারের কোনো সংকট নেই। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা সার নিয়ে অনিয়ম করলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কৃষকদের কাছে তরমুজ চাষ যেমন সম্ভাবনার, তেমনি ঝুঁকিরও। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এই ফসল তাঁদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই গত বছরের লোকসানের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নতুন মৌসুমে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কলাপাড়ার কৃষকরা।









