গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা গার্মেন্টসের বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি গাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প সরকার কোনো অবস্থাতেই ধ্বংস হতে দেবে না। এই শিল্পে লাখ লাখ ভাই-বোন ও মা কাজ করছেন। এটি তাঁদের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাই কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনোই নিজেদের কর্মস্থল ও শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে, যা সরকার অবগত। তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
মোংলা বন্দরে ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে বন্দরের প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় নির্মাণ করা হবে দুটি আধুনিক জেটি, লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন। পাশাপাশি স্থাপন করা হবে ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।
প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে এবং বছরে চার লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জিত হবে।
প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে গত ১০ অক্টোবর প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাকি অর্থের জোগান দেবে সরকার। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ২৫ মার্চ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের সক্ষমতা বাড়বে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণেও মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চীনের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
হযরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুরে বাগেরহাট শহরতলিতে হযরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি মাজার শরিফে ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির উন্নতি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকল ভেঙে হাত মেলান এবং কুশল বিনিময় করেন।
মোংলা থেকে বাগেরহাট আসার পথে এবং বাগেরহাট থেকে খুলনায় যাওয়ার সময়ও মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।









