মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছে সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি পল্লীর চারটি চর—আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচর। এতে ১০ হাজার জেলের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে হতাশার ছাপ। শুক্রবার সকালে দুবলায় পৌঁছেই এসব জেলে নৌকা ও ফিশিং ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে বয়ে চলা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে জেলেরা এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। দুবলা ফিশারমেন গ্রুপ ও সুন্দরবন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুন্দরবনের দুবলার আলোরকোল থেকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে জানান, এবারের দুবলার শুঁটকি মৌসুমের প্রথম দিনেই জেলেরা দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রায় ১০ হাজার জেলের বহর লোকালয় থেকে রওনা দিয়ে শুক্রবার সকালে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচরে পৌঁছায়। দিনভর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা চরে নেমে তাদের থাকার অস্থায়ী ঘর ও মাছ রাখার গোলা তৈরি করতে পারেননি। ফলে তাঁরা নৌকা ও ফিশিং ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাগরে অবিরাম বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। উত্তাল সাগরসহ সুন্দরবনের নদ-নদীতে বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের অধীন দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান মুঠোফোনে জানান, সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরির জন্য আসা প্রায় ১০ হাজার জেলে শুক্রবার সকালে দুবলায় পৌঁছেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। ঝড়-বৃষ্টির কারণে শুঁটকি মৌসুমের প্রথম দিনেই জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেননি।
তিনি জানান, দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচর নিয়ে গঠিত অস্থায়ী শুঁটকি পল্লীতে বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা এসেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাঁরা থাকার ঘর তৈরি করতে না পেরে নৌকা ও ফিশিং ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছেন। উত্তাল সাগর ও সুন্দরবনের নদ-নদীতে বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বলেও জানান এই বন কর্মকর্তা।








