কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মহিপুরে পরিবেশবান্ধব কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সার ডিলার, ব্যবসায়ী, কৃষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের ‘একর্যাব’ প্রকল্পের উদ্যোগে মহিপুর কারিতাস কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চল, ধরিত্রী ও একর্যাব প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা জর্জ বৈরাগী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—উপকূলীয় মানব উন্নয়ন সংস্থা (সিকোডা)’র নির্বাহী পরিচালক ও বিএমইউজে পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খান, লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. তুহিন খান, মহিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ খান, গুড নেইবারস বাংলাদেশ কলাপাড়া সিডিপি প্রকল্পের ম্যানেজার রাজিব বিশ্বাস এবং হীড বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী সুজন মজুমদার।
সভা সঞ্চালনা করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চল ধরিত্রী প্রকল্পের ফিল্ড ফেসিলিটেটর কাজল ঘরামী।
সভায় স্থানীয় কৃষাণি, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা, সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, ফসলের উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা কেঁচো সারের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, কৃষকের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ানো এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি মো. নাহিদ হাসান বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়নে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি শুধু মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে না, কৃষককেও আর্থিকভাবে লাভবান করে।”
অন্য বক্তারা জানান, জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব। এতে যেমন কৃষক লাভবান হবেন, তেমনি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সমাজও উপকৃত হবে।
পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।









