পটুয়াখালীর বাউফলে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত বসেন না কর্মকর্তা এম এম শাহাবুদ্দিন। এতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কার্যালয়টির চারপাশ ময়লা-আবর্জনা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। সরকারি এ কার্যালয়ের এমন বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো হাসপাতাল এলাকায় অবস্থিত স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। কার্যালয়ের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে আশপাশের জায়গা। কার্যালয়ের বারান্দায় রাখা হয়েছে লেপ-তোশক তৈরির বিভিন্ন মালামাল। এমনকি অফিসের সামনে নেই কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড। সব মিলিয়ে সরকারি কার্যালয়টির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিনকে তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না। তিনি কোথায় বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে অস্পষ্টতা। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ নিতে এসে অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাঁর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। বন্যার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তিনি সেখানে বসেন না। তা ছাড়া মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কাজ করতে হয় বলে নিয়মিত কার্যালয়ে বসা সম্ভব হয় না।
তবে সরেজমিনে গিয়ে কার্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম না চলায় ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, কার্যালয়টি মেরামত করা প্রয়োজন। এ কারণে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করেন। কার্যালয়টি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোথায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ওই কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন বলে শুনেছেন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং স্যানিটেশন-সংক্রান্ত সেবা প্রদানে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের এমন বেহাল দশা ও কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যালয়টি সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সেখানে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।








