খাসজমি বন্দোবস্তের কবুলিয়াতের শর্ত অনুযায়ী, ১৫ বছর জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ থাকলেও ছয় বছরের মধ্যে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পরে একই জমি নতুন করে বন্দোবস্ত নিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা হলে ৬৩ লাখ ২২ হাজার ১৯৮ টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা কার্যকর হচ্ছে না। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের কলাউপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হেমায়েত উদ্দিন হিরন মৃধা গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, একই গ্রামের মরহুম ছৈজদ্দিনের ছেলে মো. এফরান তালুকদার ১৯৮০ সালে লালুয়া মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১৩৪১ ও ১৩৪২ নম্বর দাগে মোট ১ একর ৫০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন। বন্দোবস্তের কবুলিয়াত অনুযায়ী, ১৫ বছরের মধ্যে ওই জমি হস্তান্তরের সুযোগ ছিল না। কিন্তু অভিযোগ অনুসারে, বন্দোবস্ত নেওয়ার মাত্র ছয় বছরের মধ্যে, ১৯৮৬ সালের ১৪ জুন ৪২৯১ ও ৪২৯২ নম্বর সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি তিন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর ৩৯৬৩ নম্বর সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে একই জমির ১ একর ৫০ শতাংশ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, আগের বিক্রির তথ্যসহ জমির পরিমাণের হিসাবে অসংগতি দেখা দেয়। এসব তথ্য গোপন করে এফরান তালুকদার নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে ২০১৬ সালে বানাতিপাড়া মৌজার ১৬৫ ও ১৬৬ নম্বর দাগের জমি নতুন করে বন্দোবস্ত নেন। এ জন্য ২৭৭/১৯৭৮ নম্বর বন্দোবস্ত মামলার সূত্রে ২০১৬ সালের ১ জুন ২৪৪ নম্বর খতিয়ান খোলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলাকালে ওই জমি ও অবকাঠামোর বিপরীতে ৬৩ লাখ ২২ হাজার ১৯৮ টাকা ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ করা হয়। তবে জমির মালিকানা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং পিতার নাম পরিবর্তন করে সরকারি কোষাগার থেকে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
হিরন মৃধার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনি ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। পরে ভূমি প্রশাসনের অনুসন্ধান ও দুদকের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তাঁকে জানানো হয়। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ের ০০.০১.৭৮০০.৬৫৩.২৬.০০২.২৪-২৮২৯১ নম্বর স্মারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বদলির পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে দীর্ঘদিনেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি নতুন করে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. এফরান তালুকদার বলেন, “আমি একজন ভূমিহীন কৃষক হিসেবে উপজেলা ভূমিহীন বাছাই কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়েছি। ওই জমি সরকার অধিগ্রহণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছি।”








