পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে হালকা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে দিগন্তজুড়ে সবুজ আমন ধানের ক্ষেত। চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ উপজেলার কৃষকরা। বিগত বছরগুলোতে আমন মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি আর বন্যার সঙ্গে লড়াই করে আমন ধান চাষ করলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। মৌসুমের শুরুতে প্রবল বর্ষণে কোনো প্রভাব পড়েনি। চারা রোপণের পরপরই দফায় দফায় বৃষ্টি আর রোপণকৃত ধানের চারা কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় দ্রুত বেড়ে উঠেছে। তাই সবুজে ছেয়ে গেছে ধানের ক্ষেত। আর দিগন্তজুড়ে সবুজের মাঝেই উঁকি দিচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা আর অর্জন ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে ব্রি ধান-৮৪, তবে উপজেলার কৃষকরা উপসী ৭০% ধান চাষাবাদ করছেন। কৃষকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টিপাতের হার বেশি হওয়ায় ক্ষেতে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ক্ষেতের অবস্থা ভালোই দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের কৃষক মজিদ হাওলাদার বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমন ধানের বীজ বপন ও চারা রোপণ করেছি। জমিতে চারা রোপণের আগে ও পরে বৃষ্টি হলেও তা নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে। আশা করি, বিগত বছরের চেয়ে এবার বেশি ফসল ঘরে তুলতে পারব।
উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের কৃষক ইউনুছ তালুকদার বলেন, প্রায় ৬ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। আমরা নিজেরাই ক্ষেতের পরিচর্যা করি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান ক্ষেতের চেহারা যথেষ্ট ভালো। আশা করছি, ফলনও ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ক্ষেতের অবস্থা বেশ ভালো। ফলে এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধানের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কৃষকরা এবার লাভবান হবেন।









