বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিমানুল ইসলাম রিমুর সমর্থনে জেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। একই সঙ্গে জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং বিতর্কমুক্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের পানির ট্যাংকিসংলগ্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে সকাল ১১টার দিকে রিমানুল ইসলাম রিমুর নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে তাঁরা ঝাউতলা চত্বরে সমাবেশস্থলে যোগ দেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, গত ১৭ বছর যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন এবং রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করতে হবে। পটুয়াখালীতে একটি সুশৃঙ্খল যুবদল গঠনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যুবদলকে মাদক, চাঁদাবাজি, জুয়া ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া যাবে না। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হলে তা তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, জেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিমানুল ইসলাম রিমু বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যেসব নেতাকর্মী রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। হামলা-মামলার ঝুঁকি উপেক্ষা করে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের অভিজ্ঞতা ও অবদান নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে অংশ নেওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরা হতাশ হবেন। এ সময় তাঁরা যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনে সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ কর্মসূচিতে রিমানুল ইসলাম রিমুর সমর্থনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবি ঘিরে জেলা যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে তৃণমূলের প্রত্যাশা সামনে এসেছে। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কমিটি গঠনে এসব দাবি কতটা গুরুত্ব দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।









