সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানবাহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পটুয়াখালীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা। একই সঙ্গে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৮ অক্টোবর) পটুয়াখালীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পটুয়াখালী সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভাটি আয়োজন করা হয়।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিমের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালানো এবং যানবাহনের ফিটনেস বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ ও সড়কে নিয়মশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কিশোর রায়, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. মুজিবুর রহমান, পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন এবং পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।







