লেখাপড়া শেষ না করেই কৃষিকাজে যুক্ত হন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের কৃষক আবু ইউসুফ। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করে এখন সফলতার মুখ দেখছেন তিনি। মাত্র ৩৬ শতাংশ জমিতে ড্যারী লেডি ও রেড লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে প্রায় তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন এ কৃষক। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে আবু ইউসুফের পেঁপেবাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডগা থেকে শুরু করে মাঝের অংশ পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোট-বড় পেঁপে। পুরো বাগানজুড়েই ফলের সমারোহ। প্রতিটি গাছেই ধরেছে প্রচুর পেঁপে। কয়েক দিন আগেও তিনি প্রায় ২২ মণ পেঁপে বিক্রি করেছেন।
কৃষক আবু ইউসুফ জানান, অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। ছোটবেলা থেকেই মাঠে কৃষিকাজ শুরু করেন। এলাকার অন্য কৃষকদের মতো তিনিও প্রথমে পেঁপে চাষ শুরু করেননি। ২০২৫ সালে বড় গোপালদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তাঁকে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষের পরামর্শ দেন। পরে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন।
তিনি বলেন, মাত্র ৩৬ শতাংশ জমিতে পেঁপের চারা রোপণ করেন। রোপণের তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে। পাঁচ মাস পরই সেই ফল বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। পেঁপে চাষে খরচ ও পরিশ্রম তুলনামূলক কম হলেও আয় ভালো। বাজারে পেঁপের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে তাঁর।
আবু ইউসুফ আরও বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাঁর বাগান পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তাঁদের সহযোগিতা ও পরামর্শে তিনি পেঁপে চাষে সফলতা পেয়েছেন। অল্প জমিতে পেঁপে চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব হওয়ায় এলাকার অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে পেঁপে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ফল। কাঁচা ও পাকা—দুই অবস্থাতেই পেঁপে খাওয়া যায়। হাটবাজারে পেঁপের চাহিদা রয়েছে। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সব শ্রেণির ক্রেতার কাছে ফলটি জনপ্রিয়। পাশাপাশি সবজি হিসেবেও পেঁপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পেঁপে চাষ করলে কৃষকেরা অল্প সময়ের মধ্যে লাভবান হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবু ইউসুফের সাফল্য এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।









