পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা কৃষকেরা কুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় এবং এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের ৭০টি করে বিভিন্ন জাতের কুলের চারা ও অন্যান্য উপকরণ প্রদান করা হয়। গত জুলাই মাস থেকেই কৃষকেরা কুলের চারা রোপণ শুরু করেন। বর্তমানে কৃষকদের কুলবাগানের গাছে গাছে ফুলের সমারোহ বিরাজ করছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপক ফলনের আশা করছেন।
অল্প সময়ে ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়া যায়—এমন একটি ফল কুল। কুল চাষ করে উপজেলার অনেক বেকার যুবক নিজেদের সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে এনেছেন। ফল হিসেবে কুলের চাহিদা থাকায় দিন দিন এ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হলেও মুখরোচক ও খাবার উপযোগী জাতের কুল চাষে স্থানীয় বেকার যুবকসহ শৌখিন চাষিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। উঁচু জমিসহ বাড়ির আঙিনায় কুল চাষ করে অল্প পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায়। চাষিরা জানান, বাজারে কুল ভালো দামে বিক্রি করা যায়। ফলে উপজেলার অনেক উদ্যোক্তা যুবক ও শৌখিন চাষি কুল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরজবেগী গ্রামের চাষি কাজী আবু জাফর জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে ৭০টি কুলের চারা রোপণ করেছেন তিনি। বর্তমানে কুলবাগানে ফুলের সমারোহ বিরাজ করছে। বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু ফুল আর ফুল। এ বছর ব্যাপক ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।
অপরদিকে, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের মো. আনিছুর রহমান বাড়ির পাশের জমিতে তিনটি বাগানে বলসুন্দরী, আপেল কুল ও ভারতসুন্দরী জাতের কুল চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি ফল, যা থেকে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়। তেমন বেশি খরচ ও পরিশ্রম ছাড়াই জমিতে দু-একবার নিড়ানি দেওয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবার তিনি ১১০ শতাংশ জমিতে কুল চাষ করেছেন। তিনটি বাগানের কুলগাছ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। বাগানের চারদিকে মৌ-মৌ সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনটি কুলবাগানে মৌমাছিসহ বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ উড়ে বেড়াচ্ছে। ফুলের সুগন্ধ ও পতঙ্গের গুনগুন শব্দে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, কুল একটি বিষমুক্ত ফল। এ উপজেলায় দিন দিন কৃষকেরা কুল চাষে ঝুঁকছেন। উপকূলের মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় কুল চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। কুলবাগানে ফুলের সমারোহ দেখে অনেক কৃষক কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।









