পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে আধুনিক পাঁচটি কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টসহ একটি বড় আকৃতির পণ্যবাহী জাহাজ ‘ফান ঝু-৬’ (Fan Zhou-6) ভিড়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে চীন থেকে ইকুইপমেন্ট নিয়ে আসা জাহাজটি সরাসরি পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালে বার্থিং করে।
এর আগে পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এমভি ডা হোঙ-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল বার্থিং করে কার্গো খালাস করে। এ নিয়ে মোট তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালে ভিড়ল।
দীর্ঘ বিরতির পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টবাহী ‘ফান ঝু-৬’ জাহাজের আগমনের মধ্য দিয়ে পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালের জেটিতে পুনরায় সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রম শুরু হলো। ৬ মিটার গভীরতার ও ১৭০ মিটার দীর্ঘ পণ্যবাহী জাহাজটি বার্থিং করায় বন্দরের জেটি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
জাহাজে আসা পাঁচটি ইকুইপমেন্টের মধ্যে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি এসটিএস ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি আরটিজি ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচজি)।
এই জাহাজের আগমনের মাধ্যমে পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ছে। পায়রা বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, এর মাধ্যমে কার্গো-কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষ হবে। নতুন সংযোজিত এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড এবং ইয়ার্ডে কনটেইনারের সুশৃঙ্খল সংরক্ষণ ও স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে, এমএইচজি’র মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার ডিসচার্জিং/শিপিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ফলে পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমবে, অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বল্পতম সময়ে জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. সাইফ-উল-ইসলাম বলেন, “পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে এসব আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজনের ফলে বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর সক্ষমতা বিকাশের পথ সুগম হবে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বৃহৎ মাদার ভেসেল হ্যান্ডলিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি করা হলে অধিক ড্রাফটের বৃহৎ মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আসতে সক্ষম হবে। এর ফলে একদিকে যেমন বৃহৎ পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।
পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে আধুনিক এসব কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টের সংযোজনকে পায়রা বন্দরের আধুনিকায়ন, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের সমুদ্রবন্দরভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ সময় পায়রা বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








