পটুয়াখালীর দশমিনার সাতটি ইউনিয়নের আবাদি ও অনাবাদি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আখের চাষ করেছেন কৃষকেরা। প্রতি বছরই বাড়তি লাভের আশায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। লাভজনক হওয়ায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ বাড়ছে।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, বেতাগী-সানকিপুর, বহরমপুর, আলীপুরা, রনগোপালদী ও চরবোরহান ইউনিয়নের কৃষকেরা আখ চাষ করে আশার আলো দেখছেন। বাংলাদেশ কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। উপজেলার মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী। হাট-বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা আখ চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠজুড়ে আখের সমারোহ দেখা গেছে। সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে আখ বিক্রির জন্য সড়কের দুই পাশে ভিড় করছেন কৃষকেরা। আকারভেদে প্রতিটি আখ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির আখের মধ্যে ২০৮ জাতের আখ বেশি মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
বিগত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আখের চাষ বেড়েছে। আখ দ্রুত বর্ধনশীল ও লাভজনক নগদ ফসল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলে কৃষকদের আখ চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে অনেক উদ্যোক্তা কৃষক আখ চাষে এগিয়ে এসেছেন।
আখ সাথি ফসল হিসেবে সারা বছরই চাষ করা যায়। ফলে আখ হতে পারে সম্ভাবনাময় কৃষি বিপ্লবের নতুন একটি অর্থকরী ফসল। আখের চাষ বাড়ার ফলে উপজেলার কৃষকেরা বাড়তি লাভের মুখ দেখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
দশমিনা (পটুয়াখালী) উপজেলায় আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।









