মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দামে দেখা দিয়েছে বড় পার্থক্য। বিভিন্ন দেশ দফায় দফায় তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি মিয়ানমারে। অন্যদিকে পেট্রলের দাম সবচেয়ে কম মালদ্বীপে। তবে কোথাও কোথাও দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্বের জ্বালানি বাজার। হরমুজ ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাধা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজারে।
সবশেষ সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১২৭ দশমিক ৭৭ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪৫ দশমিক ২৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৫৬ দশমিক ৬৭ টাকা। দেশটিতে রাজ্যভেদে করের পার্থক্যের কারণে শহরভেদে জ্বালানির দাম আলাদা।
পাকিস্তানে জ্বালানির দাম বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। সেখানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ দশমিক ০৭ টাকা, পেট্রল ১৭২ দশমিক ৪৬ টাকা এবং অকটেন ১৭৭ টাকা। তবে পাকিস্তানে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করতে দৈনিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
নেপালেও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০০ নেপালি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৬২ টাকা। মিয়ানমারেও অকটেনের দাম আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় বেশ চড়া। রাজধানী নেপিডোতে প্রতি লিটার অকটেনের দাম প্রায় ২৩০ টাকা, আর ডিজেল ২৪৯ টাকা।
শ্রীলঙ্কাতেও জ্বালানি তেলের দাম বেশ চড়া। প্রতি লিটার অকটেনের দাম মানভেদে প্রায় ১৩৮ থেকে ১৬৪ টাকা, আর ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৩২ টাকা লিটারে। মালদ্বীপে জ্বালানি তেলের দামে রয়েছে বড় পার্থক্য। প্রতি লিটার পেট্রলের দাম প্রায় ১১২ টাকা ৭০ পয়সা, আর ডিজেল প্রায় ১৬৮ টাকা।
জাপানে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১১৬ টাকা, পেট্রল ১২৩ টাকা এবং হাই-অকটেনের দাম প্রায় ১৩২ টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজেল ও পেট্রলের দাম প্রায় ১৬৭ টাকা প্রতি লিটার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও জ্বালানি তেলের দামে রয়েছে বড় পার্থক্য। মালয়েশিয়ায় প্রতি লিটার পেট্রলের দাম প্রায় ১৩১ টাকা এবং ডিজেল ১৫৮ টাকা। থাইল্যান্ডে গ্যাসোলিনের দাম ১৪৪ টাকা এবং ডিজেল ১৪৭ টাকা। ইন্দোনেশিয়ায় পেট্রলের দাম প্রায় ১৩২ টাকা লিটার এবং ডিজেলের দাম বেড়ে প্রায় ১৭৪ টাকা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একই হলেও ভোক্তাদের জন্য চূড়ান্ত দাম এক নয়। কর-শুল্ক, মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ও পরিবহন ব্যয় এবং সরকারের মূল্য নির্ধারণ নীতির কারণে দেশভেদে জ্বালানির দামে বড় পার্থক্য তৈরি হয়।








