পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চলছে সরকারি এই দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রম। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অফিসে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দুটি পদের মধ্যে একটি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা মাঠপর্যায়ে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মোট ১৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন। এর মধ্যে আবার একজন কর্মকর্তা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় মাত্র চারজন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে পুরো পাঁচটি ইউনিয়নের কৃষকসেবা। ফলে একজনকে একাধিক ব্লকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এছাড়া অফিসে সরকারি গাড়ি থাকলেও চালকের বেতন বরাদ্দ না থাকায় গাড়িটির সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকায় তারা সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাচ্ছেন না। কর্মকর্তা-কর্মচারী কম থাকায় মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত কৃষিসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত অল্পসংখ্যক কর্মীদেরও।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস জানান, তীব্র জনবল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসের জনবল সংকটের বিষয়ে তারা পুরোপুরি অবহিত। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে দ্রুতই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন।









