অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক কাজী মো. রফিকুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির ঘর থেকে উদ্ধার করা বন্দুক অস্ত্র মামলায় উল্লেখ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছা. মাহমুদা বেগম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদা বেগম বলেন, তার স্বামী কাজী মো. রফিকুল ইসলাম পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর। অবসরের পর তিনি ১৩০ নম্বর পূর্ব মৌকরন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হন। পাশাপাশি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ি পৌঁছালে ছানাউল, রবিউল কাজী ও রুবেলসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা, চায়নিজ কুড়াল ও লোহার রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় ৫২১ নম্বর মামলা করা হয়েছে।
মাহমুদা বেগমের দাবি, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের বাড়ি থেকে একটি দেশীয় বন্দুক (এয়ার গান) এবং খাটের নিচ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র ও ৫-৬টি রামদা উদ্ধার করে। কিন্তু রবিউল কাজীর বিরুদ্ধে করা ৫৩১ নম্বর অস্ত্র মামলায় উদ্ধার হওয়া বন্দুকটির উল্লেখ করা হয়নি।
এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তথ্য মামলার নথিতে কেন উল্লেখ করা হয়নি এবং কার স্বার্থে এটি আড়াল করা হয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার ৩ নম্বর আসামি রুবেলসহ কয়েকজন আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি এবং তারা পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
এ সময় তিনি উদ্ধার হওয়া বন্দুকটি ৫৩১ নম্বর অস্ত্র মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আইনের রক্ষক হয়েও কেন অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে কিংবা অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য গোপন করা হচ্ছে—এর জবাব দিতে হবে।








