বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদের পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বন। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকা আরও জোরদার করতে মোংলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সিপিজি, ভিডিআরবি ও ডিসিট সদস্যদের রিফ্রেশ প্রশিক্ষণ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মোংলার চাঁদপাই রেঞ্জ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
‘Nature Based Adaptation towards Prosperous and Adept Lives & Livelihoods in Bangladesh’—NABAPALLAB প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্প, মোংলা।
প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল সুন্দরবন সংরক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সিপিজি, ভিডিআরবি ও ডিসিট সদস্যদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষা, অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধে সচেতনতা তৈরি এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে বন সংরক্ষণে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের দায়িত্ব এবং সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমসি সভাপতি মো. ফারুক হোসেন হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেক্সপিয়ার বালা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবপল্লব ও সিএনআরএসের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বাবু।
সুন্দরবনের ওপর স্থানীয় মানুষের নির্ভরশীলতা দীর্ঘদিনের। জীবন-জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি এই মানুষদের বড় একটি অংশ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার। এই বন রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বনজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিফ্রেশ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুন্দরবন রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা সদস্যদের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং বন সংরক্ষণে তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পর্যায়ক্রমে সিপিজির মতো আমরা অন্য দুটি সংগঠনকেও স্বল্প পরিমাণে হলেও বেতনের আওতায় আনতে যাচ্ছি। সুন্দরবন রক্ষায় আপনাদের সবাইকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বন বিভাগ এ বিষয়ে সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে।’
এ সময় তিনটি টিমকে সুসংগঠিত করা এবং সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।









