আবাসিক হোটেলের কক্ষে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে আলোচিত প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হত্যার আলামত নষ্ট করার অভিযোগে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোশতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ মুন্সির ছেলে। তিনি তৎকালীন এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মামলার নথি ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি ভিআইপি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে ওঠেন জহিরুল ইসলাম। সেখানে কোনো একপর্যায়ে শোভাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে হোটেল কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজানের ভাষ্য, নিহত নাজমা জহির শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের বিষয়টি শোভা জেনে যাওয়ায় দাম্পত্য জীবনে বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হোটেল কক্ষে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং হত্যার আলামত নষ্ট করার অভিযোগে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাদীপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট এবং তারা এর বিরুদ্ধে আপিল করবে না।
প্রসঙ্গত, প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তৎকালীন সরকারের আমলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ ইউনিয়নে ৪৮টি সেতু নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।







