সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহতের ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সোমবার সকাল ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে আলোচনায় বসলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। বিকেল ৫টার মধ্যে দাবি তিনটি মেনে না নিলে মহাসড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর জন্য শিক্ষার্থীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আরাফাত আহত হওয়ার দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার খোঁজ নেয়নি। আহত অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবহেলায় পড়ে ছিলেন আরাফাত। তাকে আরও আগে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতে পারতেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
আলোচনায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের অবহেলার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা যায়নি, সে বিষয়ে উপাচার্যকে জবাবদিহি করতে হবে।
এই তিন দাবির বিষয়ে বিকেল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানানোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনার সময় উপাচার্যের কক্ষে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাছেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা তিনটি দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলোর বিষয়ে বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানাবে। এরপর আমাদের আন্দোলনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, এমন একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। আরাফাতের মৃত্যুর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রয়েছে। তারা যদি আরও দ্রুত ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো ভালো কিছু হতে পারত।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, ‘আমরা দুই ঘণ্টা ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাইনি। আরাফাতের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার দায় রয়েছে। এই দায় তারা কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। এই দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সবাইকে নিতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির বলেন, ‘আমরা যখন দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েছি, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের প্রক্টর ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন এবং পরে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতেও গিয়েছেন। আমরা আমাদের দিক থেকে কোনো গাফিলতি রাখিনি। এরপরও আমাদের কোনো অবহেলা বা দায় থাকলে সেটা আমরা মাথা পেতে নিচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা যখন ঘটনা জানতে পেরেছি, সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছি। দুর্ঘটনার কারণে রাস্তায় যানজট থাকায় আমাদের যেতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কেন ব্যবস্থা করা যায়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘ওই সময় তাৎক্ষণিকভাবে আমরা এসি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তাকে ঢাকায় পাঠিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের অবহেলা এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিজয় চব্বিশ হলের প্রভোস্টকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারব। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এরপর আমরা জানাতে পারব।’





