পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম ভরিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কটি আট দশকেও পাকা হয়নি। বৃষ্টির সময় পানি ও কাদায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ তিন গ্রামের মানুষ।
বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভরিপাশা এলাকায় ১৯৪৩ সালে ৭৫ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১১ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক রয়েছেন। চার শিক্ষকই নারী। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়টি ছাড়াও এই সড়ক দিয়ে সৈয়দ মুর্তজা দাখিল মাদ্রাসা, ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ভরিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সি হাচন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভরিপাশা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা যাতায়াত করেন।
কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জুয়েল বলেন, পশ্চিম ভরিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি কাঁচা সড়ক তৈরি হয়েছে। সরকারিভাবে বিভিন্ন সময় মাটি দিয়ে সড়কটি সংস্কারও করা হয়। তবে গত ৮৩ বছরেও সড়কটি পাকা হয়নি। সড়কটি দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ মল্লিকডুবা, পশ্চিম ভরিপাশা ও পূর্ব ভরিপাশা—এই তিন গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ চলাচল করেন।
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহিদা বেগম বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়।
সম্প্রতি সরেজমিনে পশ্চিম ভরিপাশা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নুরাইনপুর সেতু-কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সড়কের জাকির মাস্টারের বাজার থেকে প্রায় ৭০০ মিটার পূর্ব দিকে মাটির সড়কের পাশে পশ্চিম ভরিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সড়কের কাদা শুকিয়ে গেছে। সড়কে বালুভর্তি অসংখ্য বস্তা ফেলা হয়েছে। বোঝা যায়, সড়কে জলাবদ্ধতা বা কাদা তৈরি হলে বস্তার ওপর দিয়ে লোকজন চলাচল করেন। বিদ্যালয়ের সামনে একটি ডোবা রয়েছে, তবে খেলার মাঠ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রানা বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়াও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় মানুষকে কাঁধে করে বা অন্যভাবে সড়কের খারাপ অংশ পার করতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, পুরোনো একটি বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের সড়ক এখনো কাঁচা। বিদ্যালয়টির জমি আছে, অথচ খেলার মাঠ নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









