দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
তারা বলেন, সরকারের প্রতি এখনই জনচাপ সৃষ্টি করতে না পারলে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা বুঝে ফেলেছে, অথচ সরকার তা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভে সরকার এখন পিআর বুঝেও না বোঝার ভান ধরেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সময় থাকতে যদি সরকার জনগণের দাবি না মেনে নেয়, তবে একদিন ‘পিআর, পিআর’ বলে রাস্তায় রাস্তায় কাঁদতে হবে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শহরের ঝাউতলা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও ইউনিট পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম আল কায়সারী এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও পটুয়াখালী পৌরসভা মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ানসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নামমাত্র টিকে আছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ, বিরোধী মত দমনে সরকারি কঠোরতা এবং নির্বাচনী প্রহসন গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলেছে। তারা মনে করেন, পিআর পদ্ধতি কার্যকর হলে জনগণের প্রকৃত মতামত ও ভোটের প্রতিফলন সংসদে প্রতিফলিত হবে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা পাবে, জবাবদিহিতা বাড়বে এবং ছোট দলগুলোকেও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
নেতারা আরও বলেন, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন নয়, বরং রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মাধ্যম হিসেবে বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের স্বার্থে দ্রুত পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।
মানববন্ধনে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা জামায়াত, ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন।
পরে একটি পদযাত্রা বের হয়ে জেলা মডেল মসজিদে গিয়ে শেষ হয়।









