পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রেকর্ডীয় ভূমির মালিকদের শান্তিপূর্ণ চাষাবাদে বাধা, ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অঙ্কুরিত বীজভর্তি ঝুড়ি নিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জামা যায় উপজেলার জে.এল. নং-৯৬ চরভূপেন্দ্র, জে.এল. নং-৯৭ ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং জে.এল. নং-৯৮ পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন জমি দখলে থেকে ঘরবাড়ি নির্মান করো জমি চাষাবাদ করে আসছে। এই জমি অবৈধ ভাবে দখল করার জন্য কিছু রাজনৈতি মহলের নেতাকর্মীরা পেশি শক্তি ব্যবহার করে তিন চরের কৃষকদের জমি থেকে দখলচুৎ করার জন্য হামলা, মামাল সহ হয়রানি মূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছ। এতে বাঁধা দেওয়ায় কৃষকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা,মিথ্যা মামলা সহ নানান ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এখোন কৃষকদে বীজতলা তৈরি করার সময়। তারা ধানের অঙ্কুরিত বীজ করে বসে আসছে। ভূমিদস্যুদের দাপটে নিজেদের রেকর্ডিয় জমিতে ধান বুনতে পারছেনা। এতে করে তিন চরে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কৃষক পরিবার ৪০ মন অঙ্কুরিত বীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার জে.এল. নং-৯৬ চরভূপেন্দ্র, জে.এল. নং-৯৭ ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং জে.এল. নং-৯৮ পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নদী ভাঙনে বিলিন হয়ে হেলে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছে পুনরায় চর জেগে উঠলে তারা জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ ও কৃষিকাজ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু, দালাল ও সন্ত্রাসীচক্র অবৈধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈধ চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রতিবাদ করলে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে মোঃ শাহ আলম হাওলাদার(পাঁচখানী),আলী আকন চৌকিদার (পাঁচখানী) এবং মোস্তফা খলিফা মানববন্ধনে জানান, তাদের জমিতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজারো পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দশমিনা সদরের মোল্লা পরিবারের রুহুল মোল্লার নেতৃত্বে সৈয়দ জাফর, আরজবেগী এলাকার জাহিদ শিকদার, তহিদ শিকদার, এনায়েত গাজী ও সাকুসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।,আমরা রেকর্ডীয় ও প্রকৃত ভূমির মালিক। অথচ আজ নিজেদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে পারছি না। প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার পথে। ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী কৃষকগন দশমিনা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের স্লোগান “সন্ত্রাসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও,অবৈধভাবে জমি বিক্রি করে তরমুজ চাষ করতে দেওয়া যাবে না,আমরা আমাদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে চাই,এসব স্লোগান দেন।
পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, উপজেলার জে.এল. নং-৯৬ চরভূপেন্দ্র, জে.এল. নং-৯৭ ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং জে.এল. নং-৯৮ পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমি যথাযথা ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষে অবহিত করেছি।








