শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তেমনি তাঁর শাসনামল ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। তবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা দলটির ইতিহাসের একটি মৌলিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার তাৎপর্য
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই দল পরবর্তী কয়েক দশকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার যে উদ্যোগ জিয়াউর রহমান নিয়েছিলেন, তা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
পরিশেষে বলা যায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবস্থান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাংগঠনিক ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর প্রবর্তিত রাজনৈতিক দর্শন, ১৯ দফা কর্মসূচি এবং জাতীয় উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণা বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়, তা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ইতিহাস তাই বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।








