গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে কার্যক্রম চালিয়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা—এমন তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে কয়েকটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার ও সুনামগঞ্জে এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিভিন্ন ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের কিছু নেতাকর্মী বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে এ যোগাযোগ চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল, বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো পরিকল্পনা জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো অপচেষ্টা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টা মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ও নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল হতে পারে।









