কলাপাড়ায় বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এঘটনায় ০৭ জন কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে দোকান পাট। শুক্রবার সকালে ও বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে , বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাজারের রমনী (৪০) নামের এক ব্যক্তির সেলুনের সামনে থেকে বাক প্রতিবন্ধী এক নারী হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় রমনি ওই নারীর হাত ধরে টান দিয়ে সেলুনে ভেতরে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি অন্যান্য ব্যবসায়ীয়া দেখে ফেলেন। রাত দশটার দিকে এ বিষয় মিটমাট করতে ব্যবসায়ীরা বসেন। পরে রমনিকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করে স্থানীয়রা গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারা রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল তাকে জিম্মায় নিতে আগ্রহী হন। বিষয়টি নিয়ে জুয়েলের সঙ্গে বানাতী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুবেল হাওলাদারের বাকবিতন্ডা হয় এবং মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে রুবেল হাওলাদারসহ দুই- তিনজন আহত হন। এঘটনার বিচার দাবিতে ব্যবসায়ীরা সকালে বানাতি বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ রেখে বাজারে নামলে ফের উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। এতে দুই গ্রুপের জুয়েল, জুবায়ের, ইমরান, মনির ও কামালসহ অন্তত ৮ জন আহত হন।
আহত মোঃ ইমরান বলেন আমার ভাড়াটিয়া রমনী সেলুন ব্যবসায়ী। তিনি বাকপ্রতিবন্ধীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা চালায় । তখন অন্য ব্যবসায়ীরা দেখে ফেলেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জুয়েল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুবেলকে মারধর করে। আজ সকালে সকল ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তে দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জুয়েল ও তার ছোট ভাই জোবায়ের সভাপতি রুবেল ভাইকে ধাওয়া করে। আমি পাশে ছিলাম তখন আমাকে মারধর করে । আমি কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে সেখানে আমাকে মারধর করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে জুবায়ের বলেন, কালকে আমার ভাইয়ের সাথে বাজার ব্যবসায় সমিতির সভাপতি রুবেলের সাথে ঝামেলা হয়েছিল। উভয় পক্ষ কলাপাড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি চলে যায়। আমার দাদির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে আমি গ্রামের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে লালুয়া বাজারে পৌছলে দেখি দোকানপাট বন্ধ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হট্টগোল চলছে । দোকানপাট বন্ধ দেখে বলি বিষয়টি কালকে মীমাংসা হয়েছে, দোকানপাট বন্ধ কেন। বিষয়টি জানার জন্য আমান ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলি । তখন আমার বন্ধুর বাবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে মারতে থাকে। এই সুযোগে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুবেল আমাকে মারধর করেন। তখন ফুর্তি তালুকদার এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
বানাতী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা হেমায়েদ উদ্দিন হিরন বলেন, পুরো ঘটনার বিচার না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।









