প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম শাকিল। মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো তাকে দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।
মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর পটুয়াখালী শহরের কর ভবনের পাশে বাইতুল মামুর জামে মসজিদের সামনে শাকিলের মা সাহিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত মানুষ অংশ নেন।
জানা গেছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) মাগরিবের সময় সাহিদা বেগম মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। পরে পটুয়াখালী ও যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শাকিলকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
জানাজার সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শাকিল। দীর্ঘদিন পর মায়ের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে তাকে কাছে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে তাকে আবার যশোর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাহিদা বেগম দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। শাকিল তার ছোট ছেলে।
শাকিলের বড় ভাই মো. শাহিন দাবি করেন, তার ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি বলেন, মামলার অনেক আসামি জামিনে মুক্ত হলেও শাকিল দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহিন আরও বলেন, “আমার মা আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো মাকে দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে আমার ছোট ভাই এসেছে। মায়ের জানাজায় ছেলেকে পাশে পাওয়াটা আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগের বিষয়।”
তিনি প্রশাসনের কাছে তার ভাই রফিকুল ইসলাম শাকিলের মুক্তির জন্য আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে অবরোধ চলাকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়।









