পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৈতৃক সম্পত্তি গোপন এবং ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম শরীফ।
ভুক্তভোগীর দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, তিনি কুয়াকাটা পৌর এলাকার কাশিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মরহুম দলিল উদ্দিন শরীফের তিনটি সংসার ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সংসার কাশিপাড়া এলাকায় এবং অপরটি বরগুনায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাবা বরগুনায় অবস্থানকালে সেখানে কিছু সম্পত্তি অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানদের কুয়াকাটায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও তারা সেখানে না আসায় ওই সম্পত্তি তাঁর বাবার ওই সংসারের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে লিখে দিয়ে তিনি কুয়াকাটায় চলে আসেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তীতে দলিল উদ্দিন শরীফ জীবিত থাকা অবস্থায় আরও একটি বিয়ে করেন। বর্তমানে জানা যাচ্ছে, তাঁদের বংশের সম্পত্তির মধ্যে ভুক্তভোগীর আরেক সৎ ভাইয়ের ছেলে মো. জালাল শরীফ, পিতা—হযরত শরীফ, সাং—কাশিপাড়া, ১৯৯৮ সালে নিজের নামে একটি দলিল নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি যদি তাঁর পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি হয়ে থাকে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আইনগতভাবে বণ্টনযোগ্য হয়, তাহলে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ওই সম্পত্তি অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হলো—এ বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্পত্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ওয়ারিশান সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা ও সম্পত্তির মালিকানা সম্পর্কে সত্য উদঘাটিত হবে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি কোনো অন্যায় দাবি করছি না। পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার সঠিকভাবে নির্ধারণ চাই।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




