পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম মোঃ তানভীরুল ইসলাম দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় এমপিও সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মরত থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. তানভীরুল ইসলামের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কেন তাঁর এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে ২৮ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, মো. তানভীরুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। তিনি একই সময়ে সরকারি এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতার পাশাপাশি মডেল মসজিদের সম্মানী ভাতাও গ্রহণ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় অনুসন্ধান এবং জেলা মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কর্মরত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং একটি পদ ছাড়ার জন্য এক মাস সময় চান। বিষয়টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬-এর ১১.১০ (ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হওয়ায় তাঁর এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে লিখিত ব্যাখ্যায় মো. তানভীরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম পদটি কোনো নিয়মিত লাভজনক চাকরি নয়; এটি ধর্মীয় খেদমতের একটি অলাভজনক পদ, যেখানে দায়িত্ব পালনের বিপরীতে সম্মানী দেওয়া হয়। এ পদে সম্মানী গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সম্মানী ভাতা গ্রহণ স্থগিত রাখতে এবং প্রয়োজন হলে কোনো সম্মানী ছাড়াই পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে এখন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাঁর লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ ২০২৩ সালের ১৭ই এপ্রিল ততকালীন জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশ পটুয়াখালী মডেল মসজিদে তার চাকুরী হয়। পরতর্তীতে ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দশমিনার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপরে ইসলামি ফাউন্ডেশনের একটি সভায় তাকে যেকোনো একটি পদ ছাড়ার জন্য তাকে বলা হলেও সে গরি মুশি করতে থাকে।
সম্প্রতি ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহা পরিচালক এবং মাদ্রাসা অধিদপ্তরে পত্র দেয়া হলে মাদ্রাসা অধিদপ্তর তার বেতন ভাতা সাময়িক স্থগিত করে।









