দেশীয় মৎস্যসম্পদ, নদী-খাল এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে ব্যতিক্রমী প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ফতুল্লা বাজার এলাকায় ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন ও তারুণ্যে আউলিয়াপুর-এর যৌথ উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে নিষিদ্ধ রিং জাল ও চায়না দুয়ারী জালের পরিবেশগত ক্ষতি, আইনি নিষেধাজ্ঞা এবং দেশীয় মাছ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে লিফলেট বিতরণ ও সরাসরি গণসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদল নেতা ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন, উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও তারুণ্যে আউলিয়াপুরের উপদেষ্টা ডা. রাকিব মৃধা, ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহাম্মেদ কাওসার ইবু, তারুণ্যে আউলিয়াপুরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, কোষাধ্যক্ষ মো. রাকিবুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহাম্মেদ কাওসার ইবু বলেন, “রিং জাল ও চায়না দুয়ারী জাল শুধু মাছই নয়, পোনা, মা মাছ, কাঁকড়া, শামুক, সাপসহ অসংখ্য জলজ প্রাণীকে নির্বিচারে ধ্বংস করে। এতে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।”
জেলা যুবদল নেতা ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন বলেন, “অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হলে সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, রিং জাল ও চায়না দুয়ারী জালের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পোনা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।








