যাচাই বাছাই না করে কোনো কাগজে কিংবা বিল ভাউচারে স্বাক্ষর দিতে অপপারগতা প্রকাশ করার পরেই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এর প্রতিবাদে মাদ্রাসাটির অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
আজ বুধবার এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মোহসেনুদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসায়। মাববন্ধনে বক্তৃতা করেন সুজন মৃধা, মো. নূরউদ্দিন, মো. ইমরান মৃধা, মো. মারুফ প্রমুখ।
সরেজমিনে মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,দীর্ঘদিন পর ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর তিন বছরের জন্য মোহসেনুদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসায় মুহাম্মদ আবদুর রশিদ নামে একজন উচ্চ শিক্ষিত ও সৎ ব্যক্তিকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ মোহসেনুদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করে।
প্রথম সভায় সভাপতি মুহাম্মদ আবদুর রশিদ শিক্ষক ও অধ্যক্ষকে নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন। সেভাবেই মাদ্রাসার বিভিন্ন দিক তদারকি করে আসছিলেন আবদুর রশিদ। তদন্ত না করে অধ্যক্ষের বুয়া বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করতেন না। তখন থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অধ্যক্ষ আবদুর রহিম।
পরে ওই মাদ্রাসার একজন তৃতীয় ও তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় সভাপতিকে অবহিত না করেই। এ সংক্রান্ত রেজুলেশনে সভাপতি আবদুর রশিদ স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করায় অধ্যক্ষ আবদুর রহিম আরও ক্ষুব্ধ হন।
পরে তিনি (অধ্যক্ষ আবদুর রহিম) গোপনে পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদকে পরিবর্তনের জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ভাইস চ্যান্সেলের অনুমতিক্রমে রেজিষ্ট্রার আহাদ আহমদ মোমতাজীর ১৫ জুলাই স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সভাপতি আবদুর রশিদকে বাদ দিয়ে অবিশিষ্ট মেয়াদের জন্য অন্য উপজেলার মো. রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন সংক্রান্ত নিয়মানুযায়ি সভাপতির অদক্ষতা, অর্থনৈতিক অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা-বিরোধী কাজে জড়িত হওয়াসহ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেলে ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক এক বা একাধিক সদস্য দ্বারা গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সভাপতির অপরাধ প্রমানিত হলে তাঁকে (সভাপতি) বিম্ববিদ্যারয় কারণ দর্শাণোর নোটিশ প্রদান করবে। যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ভাইস চ্যান্সেলর তাঁর (সভাপতি) পদ বাতিল করতে পারবেন।
কিন্তু সভাপতি আবদুর রশিদকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়েই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,চাকুরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ষ্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে এক প্রার্থীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ও আরেক প্রার্থীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছেন অধ্যক্ষ আবদুর রহিম। এছাড়াও নানা আর্থিক নিয়মের অভিযোগে তাঁর এমপিও স্থগিত করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুর রহিম বলেন,তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ফয়সালা হয়ে গেছে। সভাপতি আবদুর রশিদকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি (অধ্যক্ষ) বলেন,তিনি (সভাপতি) সৎ হলেও বৃদ্ধ মানুষ। শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ কারণে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ তাঁকে বাদ দিয়েছেন।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী বলেন,‘অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সভাপতি আবদুর রশিদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়গুলো তাঁদের জানা ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








