বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপের মাঝেই নতুন এক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গুগলে বাংলা ভাষায় ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ কিংবা ‘চোরের দল’ লিখে সার্চ করলেই সামনে চলে আসছে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনাল ম্যাচের তথ্য। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, হাস্যরস ও ট্রোল।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গুগলের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা নামকরণ নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা দলকে ব্যঙ্গ করে বিপুল পরিমাণ পোস্ট, ভিডিও, মিম ও ট্রোলে ‘চোরের দল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম ওই কিওয়ার্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ফলাফল দেখাচ্ছে।
এই ট্রোলের শিকড় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্তে। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই কিংবদন্তি Diego Maradona করেন ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত গোল—যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়।
ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক Peter Shilton-এর মাথার ওপর দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। তৎকালীন তিউনিসিয়ান রেফারি Ali Bin Nasser ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
পরে ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বিখ্যাত সেই মন্তব্য করেছিলেন—
“গোলটি হয়েছিল কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।”
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটির গুরুত্ব শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর চার বছর আগে ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবেগও দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে এই ম্যাচকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল।
এদিকে, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফলে চার দশক আগের সেই বিতর্কিত ম্যাচ ও ‘হ্যান্ড অব গড’-এর স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য মিম, ট্রোল ও পোস্টের প্রভাবেই গুগলে এই অদ্ভুত সার্চ ফলাফল দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘চোরের দল’ কোনো সরকারি, স্বীকৃত বা ফিফা অনুমোদিত নাম নয়। এটি কেবল ফুটবল সমর্থকদের তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক ট্রোল, যা ভাইরাল কনটেন্টের প্রভাবে গুগলের সার্চ ফলাফলেও জায়গা করে নিয়েছে।








