বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সঙ্গীতা সিনেমা হল-সংলগ্ন নির্মাণাধীন কিচেন মার্কেট (কাঁচাবাজার) ভবনের নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাণকাজের মান সন্তোষজনক বলে দাবি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ইউএলএলপি (ULLP) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য একতলা কিচেন মার্কেট ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ ও নির্মাণসূচি অনুযায়ী এলসি (লোকাল ক্রাশিং) পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্টিলের শাটারিংয়ের পরিবর্তে কাঠের শাটারিং ব্যবহার, শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত লেবার শেড নির্মাণ না করা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন হেলমেট ও বুট সরবরাহ না করা এবং নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যারিকেড না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথও দখল হয়ে গেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান অগ্রগতির ভিত্তিতে কাজ শেষ হতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলটি অ্যান্ড পিই জয়েন্ট ভেঞ্চার (LT and PE JV) নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে সাংবাদিকরা নির্মাণস্থলে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আব্দুল হালিম সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমার লোক সেখানে আছে। আপনারা এসেছেন, আপনাদের যথাযথ সম্মান করা হবে। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।”
বাকেরগঞ্জ পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন,
“কিছু পাথর নিম্নমানের হতে পারে।”
তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেন,
“গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী দিয়েই মার্কেটের নির্মাণকাজ চলছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আংশিক সমস্যা থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে আর হবে না।”
বিষয়টি নিয়ে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল বলেন,
“নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।









