পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের মানিকচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রায় ৩৩ বছর আগে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে কাটাখালী বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মানিকচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের দিকে বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনটিতে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদ ও বিমের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষকরা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করতে গিয়ে দেখতে পান, ছাদের বিমের পলেস্তারা ভেঙে মেঝেতে পড়ে রয়েছে। পরে সকাল প্রায় ১১টার দিকে অফিস কক্ষে শিক্ষকরা অবস্থানকালে হঠাৎ করেই ছাদের আরেকটি অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফিরোজ শাহ বলেন, “যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার জানান, বাইরে থেকে ভবনটি স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পাশের একটি টিনশেড কক্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল না থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে এবং টিনশেড কক্ষ থেকে প্রায়ই ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনিয়া ও আবদুল্লাহর ভাষায়, “ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় আমরা ভয় পাই। আমরা নিরাপদ নতুন ভবনে পড়তে চাই।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বাচ্চু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির বিভিন্ন অংশে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগীর একজন সহকারী প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি কক্ষ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে পাশের দুটি কক্ষ ও একটি টিনশেডে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগীর বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একটি টিনশেড নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।”









