কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে একটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১২ জন জেলে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গভীর সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে গিয়েছিল। নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম (৫৫) ও শহীদ (৫৭)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুলাল মাঝির নেতৃত্বে ট্রলারটি মাছ শিকার শেষে মহিপুরের উদ্দেশে ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়ে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে উল্টে যায়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, দুর্ঘটনার সময় কালাম ও শহীদ ট্রলারের কেবিনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ট্রলার ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সাগরের পানিতে তলিয়ে যান। অন্যদিকে মাঝিসহ বাকি ১২ জন জেলে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকেন।
প্রায় ১২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বুধবার ভোরে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া আরেকটি মাছধরা ট্রলারের জেলেরা তাদের সাগরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন দুলাল মাঝি, কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) ও শামীম (৩২)সহ মোট ১২ জন।
এদিকে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি ট্রলার সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে।
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মহিপুরের পরিবেশ।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশ জানায়, ট্রলারডুবি বা জেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা তথ্য পৌঁছেনি। তবে বিষয়টি তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় জেলেরা নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে দ্রুত কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান শুরুর দাবি জানিয়েছেন।









