পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে পুরো পৌর শহরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ১০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন সামনে রেখে শহরজুড়ে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক। প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা। তবে উৎসবের এই আবহের মাঝেই ভোটার তালিকায় শত শত ‘ভুয়া ভোটার’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এছাড়া বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী ও অব্যবসায়ী ব্যক্তিদেরও ভোটার করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের ভাষ্য, এ ধরনের ভোটারের সংখ্যা কয়েকশ’ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তারা এ জন্য বর্তমান কমিটিকে দায়ী করছেন।
জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ১০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৮ জন।
সমিতির ১২টি পদের মধ্যে ১০টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দপ্তর সম্পাদক পদে মো. খালেক খান এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ফরিদ উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২২ জন প্রার্থী।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাজমুল ইসলাম ও শফিকুল হক পনির। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. নিজাম উদ্দিন ও মো. রেহান উদ্দিন। সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাজুল ইসলাম (আজাদ), রহিমুল হক হিরা ও শওকত হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন সৈয়দ মুহাম্মদ রাসেল ও জহিরুল হক বাবু। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সদস্য পদেও একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ভোটারদের অনেকেই বলছেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা ও সমিতির উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন—এমন নেতৃত্বকেই তারা বেছে নিতে চান।
তবে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক ব্যবসায়ী বলেন, যাদের দৃশ্যমান ব্যবসা নেই কিংবা যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, তারা কীভাবে ভোটার হলেন সেটি বড় প্রশ্ন। তাদের মতে, এমন অনিয়ম ব্যবসায়ী সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং সংগঠনের পেশাদারিত্ব নষ্ট করবে।
কলাপাড়ার সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মোস্তফা জামান সুজন বলেন, “এবারের ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি দৃশ্যমান ব্যবসা থাকলেই কেবল একজন ব্যক্তি ভোটার হওয়ার যোগ্য। অন্যথায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে। তবে ভুয়া ভোটার নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নির্বাচন সামনে রেখে এখন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা—সব বিতর্ক ও অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।









