বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমে ঘুষ দাবি, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে এবং জরিপ বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
শুক্রবার (৩ জুন) বিকাল ৫ টায় উপজেলার মহিষকাটা বাজারে ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহস্রাধিক ভুক্তভোগী কৃষক ও ভূমি মালিকরা অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুয়া ইউনিয়নের ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই জরিপ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা।
বর্তমানে এসব অভিযোগ ব্যাপক আকার ধারণ করায় অনিয়ম ও জরিপ কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে সহস্রাধিক ভুক্তভোগী কৃষকরা মহিষকাটা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ আলী আকব্বর এর সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মোঃ নজরুল মাতুব্বর, মোঃ রাসায়ন মুরাদ, ছালাম সিকদার, মো,রুহুল আমিন, জয়নাল সিকদার প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ডিজিটাল ভূমি জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ঘুষের বিনিময়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দিচ্ছেন। এছাড়া একটি খতিয়ানকে অযৌক্তিকভাবে একাধিক খতিয়ানে বিভক্ত করে পরে তা সংশোধনের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছেন। অর্থ ছাড়া অফিসে কোনো কাজই হচ্ছে না
কৃষক নজরুল মাতুব্বর বলেন, ওই জরিপে অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে একটি মামলা দায়ের করেছি। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে। যার নম্বর ৪৮৬৫। ওই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ জরিপের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে রুল জারি করে জরিপ কাজ বন্ধের আদেশ দেন। হাইকোর্টের সেই আদেশ অমান্য করে জরিপ কর্তৃপক্ষ ৮/১০ দিন পূর্বে পুনঃরায় ওই ইউনিয়নে জরিপ কার্যক্রম শুরু করে। তিনি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পুনঃরায় জরিপ কার্যক্রম বন্ধ করতে অনুরোধ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে




