
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার উজিয়াল খান মৌজায় প্রায় দুই একর জমিতে যৌথভাবে এক সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন কাউখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়দেব রায়, গোলাম রব্বানী, কাউখালী সরকারি কলেজের সাবেক আহ্বায়ক সজল হোসেন ইমরান এবং সাবেক সদস্য সচিব মীর ফয়সাল ইমতিয়াজ ।
তাদের এই খামারে শোভা পাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন লাউ, করলা, পেঁপে, কলা, কুমড়া, ঢেঁড়স, কাঁকরোলসহ হরেক রকমের শাকসবজি। পাশাপাশি রয়েছে মাছ চাষের ঘেড়। ইতিমধ্যে এই খামার থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। তরুণদের এমন অনন্য উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমন বলেন,আমরা শুধু রাজনীতি বা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থেকে অলস সময় পার করতে চাইনি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো—বাইরে বাজে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট না করে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা। পড়াশোনা ও রাজনীতির পাশাপাশি যে কৃষি কাজ করে সফল হওয়া সম্ভব, আমরা সেটাই প্রমাণ করতে চেয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের খামার থেকে প্রথম দিকেই প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। আশা করছি, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে এটিকে আরও বড় বাণিজ্যিক খামারে রূপান্তর করতে পারব। আমাদের দেখে যেন অন্য বেকার যুবকেরাও অনুপ্রাণিত হয়, এটাই আমাদের চাওয়া।
উপসহকারী কৃষি অফিসার মাইনুল হুদা
বলেন, শুরু থেকেই আমি এই তরুণদের জমি নির্বাচন, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা এবং কোন সময়ে কোন ফসল ভালো ফলবে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে আসছি। তরুণদের এই দলটির কাজের প্রতি দারুণ আগ্রহ রয়েছে। তারা নিয়মিত আমাদের পরামর্শ নিচ্ছেন এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। তাদের এই সমন্বিত খামারে লাউ, করলা ও পেঁপের ফলন বেশ চমৎকার হয়েছে। রোগবালাই দমনে আমরা তাদের ফেরোমন ফাঁদসহ পরিবেশবান্ধব বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।
কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস বলেন,
শিক্ষিত তরুণরা যখন কৃষিতে এগিয়ে আসে, তখন তা পুরো সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমরা এই তরুণ উদ্যোক্তাদের বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করেছি। তারা প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো পেশাতেই সফল হওয়া সম্ভব। এই খামারটি উপজেলার বেকার সমস্যা সমাধানে এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনে একটি রোল মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখবে। আমরা আগামীতেও তাদের এই পথচলায় সব ধরনের কারিগরি ও সরকারি সহযোগিতা বজায় রাখব। তরুণদের এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এলাকার অন্য যুবকদেরও কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করবে।


