বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সেদ্ধ ডিম খেয়ে অসুস্থ হয়েছে ১১ শিক্ষার্থী। বুধবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এই ঘটনাটি। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির এবং তারা সবাই মেয়ে শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে শিশুরা সবাই সুস্থ রয়েছে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ডিমের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষায় পঠানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওসাক’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলিম আল রাজি মুক্তি বললেন, শরণখোলার ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই সময়ে ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। অন্য কোনো বিদ্যালয় থেকে এ ধরণের কোনো অভিযোগ আসেনি। কিš‘ একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিশু কী কারণে সাময়িক অসুস্থ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আক্রান্ত সবাই স্বাভাবিক রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার জানালেন, বিদ্যালয়ের তত্বাবধানেই ডিম সেদ্ধ করে খাওয়ানো হয়। সব ডিমই ভালো ছিল। প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা একই ডিম খেয়েও অসু¯’ হয়নি তারা। দ্বিতীয় শিফটের কয়েক জন মেয়ে শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পরে অসু¯’বোধ করে। দ্রæত তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কী কারণে এম হয়েছে বুঝতে পারছি না।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, ডিম খেয়ে ১১ জন শিশু পেটব্যাথা ও অস্বস্তিবোধ করায় তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। তবুও তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনির আহমেদের ভাষ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ডিমে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। একই ডিম প্রথম শিফটের আরও ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা খেয়েছে, তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। এর পরও পরীক্ষার জন্য ডিমের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অনেক সময় একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের মধ্যেও মানসিক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি যারা থাকে তাদের মধ্যেও একই ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।








