মোঃ বেল্লাল হোসেন, দশমিনা: দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন । দশমিনা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর, নৌপুলিশ ফাঁড়ি, বাংলাদেয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে মা ইলিশ সংরক্ষণে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে। এ বছর প্রথম বারের মতো মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন প্রযক্তির (ড্রোন) ব্যবহার করছেন ।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে মা ইলিশ সংরক্ষণে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা ব্যহার করতে দেখা যায়। নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার দেখা যায়। উপজেলার বশাঁবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, কেদিরহাট, হাজিরহাট, গোলখালী, কাটাখালী, সৈয়দ জফর , কালারানী, সোবাহান বাজার, আউলিয়াপুর, চরঘূর্ণি, পাতারচর, দক্ষিণ রনগোপলদী, চরহাদী, চর বোরহান, শহজালাল জুরো দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৪ কিলোমিটার নজরদারিতে থাকবে ড্রোন ক্যামেরা। ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহারে অসাধু মা ইলিশ নিধোন মৎস্যজীবীরা অবৈধ মৎস্য স্বীকার থেলে বিরত থাকছে। ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে থেকে তিনদিনে ১৫ টি বেহন্দিজাল ও ১০ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ করে পুরিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসান জানান, মা ইলিশ দেশের সম্পদ। এ সম্পদ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর প্রযুক্তিগত ব্যবহার সহ নান পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। রাতের বেলায় নৌপুলিশ, থানা পুলিশ, মৎস্য অফিসের সদস্য, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড বিভিন্ন ইউনিয়টে নদীতে টহলে থকবে আর দিনের বেলায় নদীর একটি পয়েন্টে ড্রোনের ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ মৎস্য জেলেদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ড্রোনের ব্যবহার মা ইলিশ সংরক্ষণ সময় কাল চলবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমএম পরাভেজ জানান, দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ড্রোনের ব্যবহার করা হচ্ছে। দিনের বেলায় ২-৩ টি টিম হাজির হাট অবস্থান করবে। নদীতে কোন অবৈধ জেলেরা মৎস্য স্বীকারে নদীতে নামলে ড্রোনের মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বছর ম ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলার প্রশাসন কঠোর অবস্থানে।
উপজেলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন প্রযক্তির ব্যবহার করে কাজ আরো সহ করেছেন । নদীতে অবৈধ ভাবে মৎস্য স্বীকারে কোন জেলে নামলে সহজে চিহ্নিত করা যাবে। ড্রোনের ব্যবহারে অবৈধ মৎস্যজবীদের মাঝে নতুন আতংক সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণে আমরা নদীর টহলে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।
আউলিয়াপুর এলাকার মৎস্যজীবী সান্টু ও সাইদুল জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ না করলে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদী আগামীর ইলিশ পওয়া যাবেনা। প্রশাসের এ বছরের উদ্যোগ প্রশংসারর যোগ্য। সকাল বেলা দেখি নদীর উপরে প্লেনের মতো কি উড়ছে পরে জানতে পরি ওটা দিয়ে নদীতে অবৈধ কেহ মাছ দরলে তাকে দেখতে পাবে এবং আটক করবে। আমরা অবরোধের সময় মাছ ধরিনা যারা ধরবে তাদের তাদের প্রতিহত করবো।
বাঁশবড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকার মৎস্যব্যবসায়ী মিরাজ জানান, ড্রোন দিয়ে নদী পাহারার ব্যবস্থা করার প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। সকাল, দুপুর ও বিকেল বেলায় নদীতে পাখির ডানার মতো উড়তে দেখা যায় ড্রোন। মা ইলিশ সংরক্ষণে আমরা সচেতন। অবৈধ মৎস্যজীবীদের মৎস্যস্বীকার থেকে বিরত রাখার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো।
উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নতুন ভাবে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে প্রযুক্তির(ড্রোন) ব্যবহার করছেন। এতে করে অসাধু মৎস্যস্বকারীদের মনে আতংক বিরাজ করছে। জেলেরা ড্রোন দেখতে নদীর পাড়ে ভীর করছে। উপজেলার প্রশাসনেকে ধন্যবা জানাই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।








