পটুয়াখালীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষন চেষ্টা ও মারধর ঘটনা মামলার বাদি ভিকটিমকে আসামীদের কর্তৃক জীবন নাশ’র হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে পিটিশন নং-১৬৫/২০২৬ সূত্রে জানাগেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের গেড়াখালী এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন সিপাহী বিদেশে থাকেন। স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে প্রবাসী স্ত্রী বাদী রাহিমা বেগমকে একই বাড়ির চাচাতো বাসুর জাফর সিপাই বিভিন্ন সময় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী ও উত্যাক্ত করে যৌন হয়রানীর চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনা আত্মীয় স্বজনকে অবহিত করায় ক্ষিপ্ত হয় লম্ফট বাসুর জাফর সিপাই।
ঘটনারদিন প্রবাসী স্ত্রী রাহিমা বেগম দুপুরের খাওয়া শেষে বসত ঘরের পিছনের বারান্দার রুমে ঘুমিয়ে পড়েন। এ ঘুমানো অবস্থায় বিকেল আনুমানিক ৪ টার দিকে জাফর সিপাই ঘরের দরজার খিল কৌশলে খুলে রুমে প্রবেশ করে প্রবাসী স্ত্রীকে ঝাপটে ধরে ধর্ষনের চেষ্টায় ধস্তাধস্তি করে। এ সময় ডাকচিৎকার শুনে রাহিমা বেগমের সতীন নাছিমা বেগমসহ কয়েকজন মহিলা পুরুষ দৌড়ে এসে জাফরকে হাতে নাতে ধরে ফেলে।
এ সময় উঠানে অপেক্ষমান জাফরের ভাতিজা সহযোগী জব্বার সিপাই ঘরে ঢুকে রাহিমা বেগমের মাথায় বাশের লাঠি দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং নাছিমা বেগমকেও মারধর করে জাফরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। যাবার সময় খুন জখমের ভয় দেখিয়ে বীরদর্পে চলে যায়।
স্বজনরা রক্তাক্ত আহত রাহিমা বেগমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। সপ্তাহব্যাপী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে রাহিমা বেগম সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করতে বলেন।
নিরূপায় রাহিমা বেগম উক্ত বিজ্ঞ আদালতে জাফর সিপাই ও জব্বার সিপাইকে আসামী করে একটি পিটিশন দাখিল করেন ( পিটিশন নং-১৬৫/২০২৬)। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজারভুক্ত করার জন্য পটুয়াখালী সদর থানার ওসিকে বলেন। পুলিশ ০৪.০৫.২০২৬ তারিখ এজাহার ভুক্ত করেন।
এ মামলা করায় আসামীরা বাদী ভিকটিক রাহিমা বেগমকে বিভিন্নভাব ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি দেয়। এ হুমকির ঘটনায় পটুয়াখালী বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত( ক) অঞ্চল-এ জাফর সিপাই, জব্বার সিপাই ও মিজানুর সিপাইকে বিবাদী করে অভিযোগ দায়ের করেন। যার এম.পি মামলা নং-১৩৬/২০২৬।
রাহিমা বেগম বলেন আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে চলাফেরা করে বিভিন্নভাবে তাকে খুন- জখম করার হুমকি দিচ্ছে। তিনি আসামীদের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলেও জানান রাহিমা বেগম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কমল বড়াল জানান, মামলাটি কোর্ট থেকে এসেছে, মামলার তদন্ত কাজ চলছে, সঠিক তদন্ত হবে।








