গলাচিপা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর গলাচিপায় শাহিদা বেগম (ছদ্মনাম) নামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুর রুস্তম গাজীর বিরুদ্ধে। এই পাশবিকতার ফলে ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং সম্প্রতি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, জন্মের কয়েক ঘণ্টা পরই হাসপাতাল থেকে নবজাতকটিকে অপহরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত রুস্তম গাজীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়িতে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি রাতে প্রথমবার ধর্ষণের শিকার হন শাহিদা বেগম। রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার দিকে শ্বশুর রুস্তম গাজী তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণের ফলে শাহিদা বেগম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে চলতি বছরের ২৬ মার্চ রাতে তাঁকে গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘নিউ লাইফ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন।
শাহিদা বেগমের অভিযোগ, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরের দিন সকালে মামলার ৫ নম্বর আসামি লিপি বেগম ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি ক্লিনিক থেকে নবজাতকটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন মা।
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, “গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। প্রধান অভিযুক্ত রুস্তম গাজীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপহৃত নবজাতককে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”








