একজন শিক্ষক তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় জাতি গঠনের কাজে ব্যয় করেন। তিনি শুধু পাঠদানই করেন না, বরং একটি দেশের ভবিষ্যত নাগরিকদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও জ্ঞানচর্চার ভিত্তি গড়ে তোলেন।
একজন প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিচারক, সচিব কিংবা রাজনীতিবিদ সকলের সাফল্যের পিছনেই একজন শিক্ষকের অবদান সবচেয়ে বেশী ও গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দুঃখজনক, বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ কর্মকালীন শেষে অবসরে যাওয়ার পর অনেক এমপিও ভুক্ত শিক্ষক অনিশ্চিত ও আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছেন। একজন শিক্ষক ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানসহ অর্পিত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়। কর্মজীবনের পুরো সময় তিনি দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু অবসরের পর নিয়মিত আয়ের কোন উৎস না থাকায় অনেক শিক্ষক না খেয়ে এবং বিনা চিকিৎসায় মারা যান।
তাছাড়া যে সকল শিক্ষক বেঁচে আছেন তাঁরা তাদের সংসার পরিচালনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। বয়সের ভারে কর্মদক্ষতা হারানো শিক্ষকের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর ও মানহানিকর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়।
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় অবসরকালীন এককালীন কিছু অর্থ কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।একজন শিক্ষক অবসরের পর যতোদিন জীবিত থাকবেন, ততোদিন তাঁর ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকা উচিত। এ কারণেই এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি কার্যকর পেনশন ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা সময়ের দাবী।রাস্ট্রের অন্যান্য খাতভূক্ত সরকারি চাকুরীজীবিরা অবসরে যাওয়ার পর পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধাদি পেয়ে থাকেন। শিক্ষা হলো জাতিগঠনের মূলভিত্তি, সেই শিক্ষক এই সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত রাখা ন্যায়সঙ্গত নয়। শিক্ষকদের পেনশন প্রদান কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার।
বর্তমান সরকার শিক্ষকবান্ধব সরকার। তাই এমপিও ভুক্ত শিক্ষকগনের জন্য পেনশন ভাতা চালু করলে এদেশের শিক্ষক সমাজ চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন ইনশাআল্লাহ।









