ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন তথ্য ও সংবাদ পাওয়ার প্রধান একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে ফেসবুক। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিউজফিড স্ক্রোল করা কিংবা দিনের যেকোনো সময়ে ব্রেকিং নিউজ জানার জন্য অনেকেই এই প্ল্যাটফর্মটির ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়শই ফেসবুকের বৈশ্বিক সার্ভার ডাউন হওয়া, ভুয়া খবরের (Fake News) ছড়াছড়ি এবং অ্যালগরিদমের মারপ্যাঁচে আসল সংবাদ আড়ালে চলে যাওয়ার কারণে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সঠিক সংবাদ পেতে ফেসবুকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যমগুলোর দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। ফেসবুক ছাড়াও প্রতিদিনের দেশ-বিদেশের খবর সহজে ও নির্ভুলভাবে জানার জন্য কিছু চমৎকার বিকল্প মাধ্যম নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মূলধারার নিউজ পোর্টাল এবং ই-পেপার (E-Paper)
সংবাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হলো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ। দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকগুলোর নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে (যেমন: প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ২৪ ইত্যাদি)। এসব অ্যাপ স্মার্টফোনে ইনস্টল করে রাখলে ‘পুশ নোটিফিকেশন’-এর মাধ্যমে যেকোনো ব্রেকিং নিউজ মুহূর্তেই জানা যায়। এছাড়া, যারা ঐতিহ্যগতভাবে পত্রিকা পড়ার আমেজ চান, তারা বিভিন্ন সংবাদপত্রের ‘ই-পেপার’ বা ইলেকট্রনিক সংস্করণ পড়তে পারেন।
২. গুগল নিউজ (Google News)
অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মেই ‘গউগল নিউজ’ অ্যাপটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি একটি নিউজ অ্যাগ্রিগেটর বা সংবাদ সংগ্রাহক মাধ্যম। আপনার পছন্দ এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এটি বিশ্বের এবং দেশের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ খবরগুলো এক জায়গায় এনে দেয়। ফলে বিভিন্ন সাইটে আলাদাভাবে না গিয়েও এক জায়গাতেই সব খবর পাওয়া সম্ভব।
৩. এক্স (সাবেক টুইটার)
বিশ্বজুড়ে যেকোনো ব্রেকিং নিউজ বা তাৎক্ষণিক খবরের জন্য ‘এক্স’ (টুইটার) সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো সবার আগে এক্স-এ তথ্য শেয়ার করে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বস্ত সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমকে ফলো করে রাখলে খুব সহজেই যাচাইকৃত এবং রিয়েল-টাইম আপডেট পাওয়া যায়।
৪. নিউজলেটার এবং সাবস্ট্যাক (Substack)
ইনবক্সে সরাসরি পছন্দের খবর বা বিশ্লেষণ পেতে ‘নিউজলেটার’ একটি দারুণ মাধ্যম। বর্তমানে অনেক শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম এবং স্বতন্ত্র সাংবাদিকরা দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ খবরের সারসংক্ষেপ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে থাকেন। এছাড়া ‘সাবস্ট্যাক’ (Substack) প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গভীর বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ ও কলাম পড়া যায়।
৫. ইউটিউবের নিউজ ট্যাব ও পডকাস্ট
যারা পড়তে ভালোবাসেন না, তাদের জন্য ভিডিও এবং অডিও মাধ্যম বেশ কার্যকর। ইউটিউবের ‘নিউজ’ ট্যাবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লাইভ সম্প্রচার ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ বুলেটিন দেখা যায়। এছাড়া, বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার দৈনিক পডকাস্ট (যেমন- বিবিসি নিউজ পডকাস্ট) রয়েছে, যা হেডফোন কানে গুঁজে যাতায়াতের সময় বা অন্য কাজের ফাঁকেও শুনে নেওয়া যায়।
৬. রেডিট (Reddit)
এটি একটি সামাজিক সংবাদ সমষ্টি ও আলোচনাধর্মী ওয়েবসাইট। রেডিটের বিভিন্ন ‘সাবরেডিট’ বা ফোরামে (যেমন: বাংলাদেশ বিষয়ক খবরের জন্য r/Bangladesh বা বিশ্ব সংবাদের জন্য r/news) বিশ্বস্ত ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সংবাদের লিংক ও তথ্য শেয়ার করেন। এখানে সংবাদের সত্যতা ও মান নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনা ও ভোটিং হয়, যা ভুয়া খবর চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পরামর্শ:
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল উদ্দেশ্য যোগাযোগ রক্ষা করা, সংবাদ পরিবেশন নয়। তাই গুজবের কবল থেকে বাঁচতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফেসবুকের স্ক্রোলিং কমিয়ে সরাসরি সংবাদভিত্তিক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে চোখ রাখার অভ্যাস করা উচিত। এতে একদিকে যেমন সময়ের অপচয় কমবে, অন্যদিকে তথ্যের সত্যতা নিয়েও নিশ্চিত থাকা যাবে।








