মোবাইল চার্জ শেষে চার্জার না খোলায় হচ্ছে বিদ্যুৎ অপচয়; রয়েছে ঝুঁকি ও
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই ফোন চার্জ দেওয়া নিয়ে আমাদের একটি সাধারণ অসচেতনতা বিদ্যুৎ অপচয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার্জ হয়ে যাওয়ার পর মোবাইলটি ডিসকানেক্ট করলেও অনেকেই চার্জারটি সকেট থেকে খোলেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসটি কেবল বিদ্যুৎ অপচয়ই করছে না, বরং ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড।
কেন বিদ্যুৎ অপচয় হয়?
অনেকের ধারণা, মোবাইলের সাথে যুক্ত না থাকলে চার্জার বিদ্যুৎ টানে না। কিন্তু তথ্যটি ভুল। আধুনিক চার্জারগুলোতে ট্রান্সফর্মার সার্কিট থাকে যা সকেটে লাগানো থাকলে খুব সামান্য পরিমাণে হলেও বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে। একে কারিগরি ভাষায় ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বা ‘ফ্যান্টম লোড’ বলা হয়।
একটি চার্জার একা হয়তো খুব সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করে, কিন্তু কোটি কোটি গ্রাহকের দেশে এই অপচয়ের সামগ্রিক পরিমাণ বিশাল। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সকেটে পড়ে থাকা কয়েক কোটি চার্জার সম্মিলিতভাবে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে, তা দিয়ে একটি মাঝারি আকারের গ্রামের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব।
ঝুঁকি বাড়ছে দুর্ঘটনার
কেবল অপচয়ই নয়, সারাক্ষণ সকেটে চার্জার কানেক্ট করে রাখা বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতার কারণ।
অতিরিক্ত গরম হওয়া: দীর্ঘক্ষণ সকেটে থাকলে চার্জার গরম হয়ে ভেতরের সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শর্ট সার্কিট: মানহীন বা লোকাল চার্জারগুলো সকেটে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত করতে পারে।
আয়ুষ্কাল হ্রাস: দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগে থাকলে চার্জারের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তন বড় ধরনের সাশ্রয় এনে দিতে পারে।
১. চার্জ শেষ হওয়ার সাথে সাথে চার্জার সকেট থেকে খুলে ফেলুন।
২. সকেটের সুইচটি বন্ধ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
৩. ভালো মানের বা অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করুন।
জাতীয় সম্পদের সাশ্রয় এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এই ছোট বিষয়ে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।







