বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি ক্রয়কৃত জমির ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে না দেওয়া এবং পূর্বনির্ধারিত বণ্টননামা অমান্য করে এক স্কুলশিক্ষকের দফায় দফায় লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী মনির শরীফের বাড়িতে অভিযুক্ত অংশীদারদের এমন আক্রমণাত্মক আচরণে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে জমির অংশীদার মো: বারেকের কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করেন মনির শরীফ। জমি ক্রয়ের পর থেকেই অন্য অংশীদার—রিপন, মিজানুর ও হাফিজুর রহমানদের সাথে মনির শরীফের বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাকি অংশীদাররা মনির শরীফকে তার ন্যায্য ভাগ বুঝিয়ে দিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করছেন এবং সমঝোতার সমস্ত আলোচনা প্রতিবারই ভেস্তে দিচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাবেক চেয়ারম্যান শওকত হোসেন হাওলাদারের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমির সকল অংশ চূড়ান্তভাবে ভাগাভাগি সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেই বণ্টননামা তোয়াক্কা না করে পরবর্তীতে রিপন, মিজানুর ও হাফিজুর পুনরায় আপত্তি তোলেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেন। শিক্ষকের ‘অশালীন’ ভাষা ও উন্মত্ত আচরণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিযুক্তদের একজন, স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হাফিজুরের আচরণে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তার মুখের ভাষা অত্যন্ত জঘন্য ও অশালীন। শুধু মুখের ভাষাই নয়, তার উগ্র শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব পুরো এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
হাফিজুর দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। অতীতেও তিনি একাধিকবার সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ ও মারপিটের ঘটনায় জড়িয়েছিলেন। এই মানসিক অসুস্থতা ও উগ্র আচরণের কারণে তাকে কয়েকবার চিকিৎসকের শরণাপন্নও হতে হয়েছিল। একজন শিক্ষকের এমন ‘উন্মত্ত’ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
লাঠিসোটা নিয়ে বাড়িতে হামলা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি
বর্তমানে জমি ভাগাভাগির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শিক্ষক হাফিজুর আবারও চরম উগ্র রূপ ধারণ করেছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, তিনি ইট ও লাঠিসোটা নিয়ে দলবলসহ মনির শরীফের বসতবাড়িতে চড়াও হন এবং আক্রমণ চালান।
এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








