বরগুনার বেতাগীতে অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। চলতি মাসে স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ, এমনকি তারও বেশি বিল আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় গ্রাহক জসিম উদ্দীন অভিযোগ করেন, তার বিদ্যুৎ মিটারের প্রকৃত ব্যবহার ছিল ১৮৫ ইউনিট। কিন্তু বিলে ৪৪০ ইউনিট দেখিয়ে ১ হাজার ৪ টাকা পরিবর্তে ৩ হাজার ৯৪৬ টাকার বিল করা হয়েছে। তিনি এটিকে ‘ভূতুড়ে বিল’ উল্লেখ করে বলেন, এমন অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
বেতাগী বন্দরের ব্যবসায়ী রুবেল মল্লিক বলেন, অনেক গ্রাহক স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল পাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, মিটার রিডিং সংগ্রহ না করে অফিসে বসেই অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ও সাধারণ গ্রামবাসী আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
আরও কয়েকজন গ্রাহক জানান, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের পরিবর্তে অনুমানভিত্তিক বিল করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সবাইকে নিজেদের মিটারের রিডিংয়ের ছবি সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, চলতি মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, গত মাসজুড়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকলেও বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়মিতই দেখছি। অনুমানভিত্তিক বিল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী সাব-জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “ব্যবহার বেশি হওয়া বা মিটার রিডিংয়ে কোনো ভুল থাকলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।”
এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত অতিরিক্ত ও হয়রানিমূলক বিল বন্ধ করে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী সঠিক বিল প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।









