বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি: দেশের উপক’লীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ‘আনমাস্কিং দ্য অ্যাপিল-কাউন্টারিং নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাডিকশন’- এ প্রতিপাদ্যে বেতাগীতে তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে রোববার (৩১ মে) তরুণদের উদ্যেগে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বেতাগী প্রেসক্লাবের সামনে ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ শিরোনামে মানববন্ধন ও তামাক বিরোধী সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন ও তামাক বিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সালাম সিদ্দিকী, বেতাগী বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রভাষক মো: শাহীন, গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম মুন্না, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ এর সভাপতি আরিফুল ইসলাম মান্না, সৌরভ জমাদ্দারক ও গোলাম মর্তুজা ইমন প্রমূখ।
সভাপতিত্ব করেন ইকোনোমিক ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন-ইভডার সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু।
ন্যাশনাল চিল্ড্রেন টাস্ক ফোর্স এনসিটিএফ বেতাগী উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমত মাহজাবীন বিনতী বলেন, এতে করে এখানকার তরূণদের মাঝে নিকোটিন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে অন্যান্য মারাত্মক ও ক্ষতিকারক মাদকে আসক্ত হওয়ার নজির সৃষ্টি করছে। এ কারণে ক্লাসে মনোযোগ কম এবং পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণরা নেশার খরচ মেটাতে গিয়ে নিজেদের হাতখরচের টাকা নষ্ট করছে, যা প্রায়শই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আসক্ত তরুণরা ধীরে ধীরে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং মানসিক অবসাদে ভোগছে।
মানবন্ধনে অংশ নেওয়া তরুণরা মনে করেন, তামাক কোম্পানিগুলো মূলত তরুণদের টার্গেট করেই নতুন প্রজন্মের পণ্যকে “নিরাপদ” বা “কম ক্ষতিকর” হিসেবে প্রচার করছে, যা মোটেও সত্য নয়। তামাকের আগ্রাসন থেকে তরুণদের বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া জরুরি হযে উঠেছে। তাই তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সদ্য পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সবধরনের তামাকপণ্যের কর ও দাম কার্যকরভাবে বাড়িয়ে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ, সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার তরুণদের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখানকার তরুণদের রক্ষায় স্কুল-কলেজের আশেপাশে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধে নজরদারি বাড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।









