ঈদ-উল-আযহার টানা ছুটিতে লাখো পর্যটকের আগমনের প্রত্যাশায় এখন ক্ষণ গুনছেন কুয়াকাটার সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট থেকে শুরু করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তারা প্রস্তুত রয়েছে আগত অতিথি বরণের জন্য। ইতোমধ্যে হোটেলগুলো ধোয়া-মোছার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খাবার হোটেলসহ ক্ষুদে দোকানিরা পর্যন্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ঈদকে ঘিরে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকের ভিড় না থাকায় এসব ব্যবসায়ীরা অনেকটা হতাশ হয়ে অপেক্ষা করছেন ঈদের ছুটিকে কাজে লাগানোর। তাঁদের প্রত্যাশা কাক্সিক্ষত পর্যটকের আগমন ঘটবে। তবে আগাম হোটেল বুকিংয়ের চাপ তেমন না থাকায় অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারপরও আগামি শুক্রবার থেকে পর্যটকের ভিড় থাকবে তাঁরা সবাই প্রত্যাশা করছেন। প্রকৃতির লীলাভূমি, একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সুর্যাস্তের মতো বিরল, মনোরম দৃশ্য অবলোকনের জন্য দেশের অনন্য সমুদ্র সৈকত সাগর কন্যা কুয়াকাটায় বরাবরের মতো পর্যটকের পদভারে মুখরিত থাকবে এমটাই প্রত্যাশা সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের।
হোটেল ওসান প্যালেস ম্যানেজার মোঃ পারভেজ জানান, আশা করছি ঈদকে ঘিরে শুক্রবার থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগম ঘটবে। তবে এবছর আগাম কোন বুকিং না থাকায় অনেকটা হতাশ রয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘কুয়াকাটায় আগের মত হোটেল ব্যবসা নেই।’ একই কথা জানান, হোটেল তাজওয়ার পরিচালক রণজিৎ মিত্র। তিনিও আশাবাদ ব্যক্ত করলেন, শুক্রবার থেকে গেস্ট আসার।
তবে তারকামানের কয়েকটি হোটেলে কমবেশি আগাম বুকিংয়ের তথ্য মিলেছে। সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাস, খান প্যালেসসহ তারকা মানের হোটেলে ২০-৩০ শতাংশ কক্ষের আগাম বুকিংয়ের তথ্য মিলেছে। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ এসাসিয়েশন সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানালেন এমন তথ্য। তবে হতাশার পাশাপাশি শুক্রবার থেকে গেস্ট আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করলেন সবাই। তাঁরা আগতদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানালেন, তাঁদের দুই শতাধিক হোটেল- মোটেল, গেস্টহাউস আগত পর্যটক-দর্শনার্থীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, পর্যটকের সর্বোচ্চ সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সকল ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সবাই সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।









